এক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা; আসছে দক্ষ চিকিৎসা বহর
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে পুনর্গঠন করতে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি দক্ষ ও আধুনিক চিকিৎসা বহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই উদ্যোগের আওতায় চিকিৎসক, নার্স ও প্রযুক্তিবিদদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ ও নগর স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংবলিত একটি বিশেষ বহর যুক্ত করা হবে।
- গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের ঘাটতি পূরণে দ্রুত নিয়োগ ও বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- স্বাস্থ্য খাতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং চিকিৎসা সেবার বিকেন্দ্রীকরণে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করবে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসা খাতের বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি দক্ষ চিকিৎসা বহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের তীব্র ঘাটতি এবং আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে রোগীরা যে চরম ভোগান্তির শিকার হন, তা লাঘব করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘকাল ধরে নানা কাঠামোগত দুর্বলতা, দক্ষ জনবলের অভাব এবং অপর্যাপ্ত বাজেটের মুখোমুখি হয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসক ও রোগীর যে অনুপাত থাকা প্রয়োজন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম এবং গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নতুন চিকিৎসা বহর গঠনের সিদ্ধান্তটি কেবল জনবল বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সংস্কারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘোষণা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সাথে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জীবন রক্ষাকারী আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল করতে কারিগরি দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে যাতে তৃণমূল পর্যায়ে এর সুফল দ্রুত পৌঁছায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই এক বছরের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর। অতীতে বহুবার স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে। তাই কেবল নতুন জনবল নিয়োগ নয়, বরং তাদের কর্মক্ষেত্রে ধরে রাখা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই কেবল এই দক্ষ চিকিৎসা বহর দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে আসতে পারে।
“স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এক বছরের মধ্যে দক্ষ চিকিৎসা বহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে অতীতে নীতি বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দুর্নীতির যে নজির রয়েছে, তা দূর করতে না পারলে এই উদ্যোগও কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসকদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার দাবি বিজেআইএমের
এইমাত্র
আবার যখন বর্ষা আসবে, তখন তারা জামাকাপড় পরে শুটিং করার জন্য পানিতে নামবে: সারজিস
এইমাত্র
সাত দলের ঐক্য গড়তে হেফাজতের উদ্যোগ, জামায়াত প্রশ্নে মতভেদ
এইমাত্রবাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।
