Read in English
পাঠক সুবিধা:
জাতীয়ঢাকা

বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে ইমিগ্রেশন পুলিশের নতুন হটলাইন সেবা চালু

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে ইমিগ্রেশন পুলিশের নতুন হটলাইন সেবা চালু
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে বিদেশগামী ও ফেরত আসা যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এখন থেকে যেকোনো যাত্রী ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা বা কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে সরাসরি এই হটলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ হটলাইন নম্বর (+৮৮০১৩২০০৪৪০৪০) এবং ইমেইলের মাধ্যমে যাত্রীরা ২৪ ঘণ্টা সরাসরি অভিযোগ ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সবকটি প্রবেশদ্বারে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবার মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
  • হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের শিকার যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে একটি ডেডিকেটেড মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানির অবসান ঘটাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন শাখা। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন সেবা। এখন থেকে দেশি-বিদেশি যেকোনো যাত্রী ইমিগ্রেশন পারাপারের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ দাবি বা অযাচিত বিলম্বের শিকার হলে সরাসরি এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী সেবার মান নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা চলছিল।

বিগত কয়েক বছর ধরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে নানাভাবে হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাইয়ের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং অনৈতিক সুবিধা দাবির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক এই দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল এবং রেমিট্যান্স প্রবাহেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই সংকট নিরসনে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ নির্দেশনায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জানিয়েছেন যে, নতুন চালু হওয়া এই হটলাইন নম্বরে আসা প্রতিটি কল রেকর্ড করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ সেল সরাসরি এই অভিযোগগুলো তদারকি করবে। কর্তব্যরত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে বিমানবন্দরে কর্মরত অন্যান্য অংশীজন যেমন সিভিল এভিয়েশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

কেবল একটি হটলাইন নম্বর চালু করাই ইমিগ্রেশন বিভাগের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এর পেছনে নিয়োজিত জনবলের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই সেবার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই হটলাইনের কার্যক্রমের ওপর একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো অভিযোগই ধামাচাপা না পড়ে। শেষ পর্যন্ত, এই উদ্যোগটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত অর্থেই যাত্রী হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

ইমিগ্রেশন পুলিশের এই হটলাইন সেবা চালুর উদ্যোগটি যাত্রী অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই উদ্যোগ কেবল প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম