গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তৈরি হচ্ছে বিশেষ অধিদপ্তর
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বিগত দেড় দশকের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিতে একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার একটি ঐতিহাসিক প্রতিফলন।
- গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তায় একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠন করছে সরকার।
- নতুন এই অধিদপ্তরটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি স্থায়ী রাষ্ট্রীয় তহবিল পরিচালনা করবে।
- নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কান্নার অবসান ঘটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ও বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নিচ্ছে যে, অতীতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী স্বজনদের জন্য এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের পথে একটি নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের মাধ্যমে শত শত মানুষকে গুম ও খুন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এই সময়ে প্রায় সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের অনেকেরই আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তে ইতিমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন commission গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কেবল তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট দূর করতেই এই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা গেছে, নতুন এই অধিদপ্তরের খসড়া কাঠামো ও কার্যপরিধি নির্ধারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। মানবাধিকার কর্মী এবং 'মায়ের ডাক'-এর মতো ভুক্তভোগী পরিবারের সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি তুলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এই অধিদপ্তর যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে জোর দিচ্ছেন অংশীজনেরা। মাঠ পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা পর্যায়েও এর শাখা বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। এই বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠন কেবল একটি প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং এটি অতীতের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী বার্তা। তবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুখে এই অধিদপ্তরের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা ধরে রাখাই হবে সবচেয়ে বড়挑戰। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই উদ্যোগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত অর্থেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ক্ষত উপশম করতে পারে।
“এই অধিদপ্তর গঠন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার নাগরিকদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত স্বাধীন পরিচালনা এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি বাজেট বরাদ্দের ওপর।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



