শুল্ক নিয়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ, পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘোষণা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর জের ধরে উভয় দেশই একে অপরের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
- কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শুল্ক সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
- উভয় দেশই একে অপরের আমদানিকৃত নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের তালিকা প্রস্তুত ও ঘোষণা করেছে।
- ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের ফলে গাড়ি ও কৃষি খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চরম বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই উভয় দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উত্তর আমেরিকার এই দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যকার এই বিরোধ কেবল তাদের নিজস্ব বাজারকেই প্রভাবিত করবে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। বিশেষ করে গাড়ি নির্মাণ, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং বাণিজ্য নীতিতে কঠোর অবস্থানের কারণেই এই আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছাতে পারেনি।
এই বিরোধের সূত্রপাত মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো সংবেদনশীল খাতের শুল্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব থেকে। পূর্বে সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) এই ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে একটি কাঠামো প্রদান করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি সেই চুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে উভয় দেশেরই শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপবে। অতীতেও এই দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল, তবে এবারের পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে যার ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। দুই দেশেরই ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্স এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। মাঠপর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধরনের শুল্ক আরোপের ফলে সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্য সংঘাত প্রমাণ করে যে, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয়তাবাদী অর্থনৈতিক নীতি কীভাবে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। শুল্ককে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি টেকসই অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বার্থে উভয় দেশেরই উচিত প্রতিশোধমূলক অবস্থান থেকে সরে এসে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে সম্মান জানানো। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে একটি আধুনিক ও বাস্তবসম্মত শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।
“এই বাণিজ্য যুদ্ধ প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে। দুই দেশেরই উচিত প্রতিশোধমূলক নীতি পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান বের করা।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



