চট্টগ্রামে মামলা বাণিজ্যের ফাঁদে নিরীহ মানুষ: নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানির সিন্ডিকেট
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরীহ নাগরিকদের মামলায় জড়িয়ে অর্থ আদায়ের এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকা ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালাল চক্র সাধারণ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের হয়রানি করছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
- চট্টগ্রামে অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকা ব্যবহার করে নিরীহ নাগরিকদের মামলায় জড়িয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র।
- পুলিশ প্রশাসন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার না করার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে হয়রানি ও ভীতি কাটেনি।
- মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা গণ-মামলা বন্ধে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত ও যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে নিরীহ নাগরিকদের রাজনৈতিক ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং এর আড়ালে কোটি টাকার 'মামলা বাণিজ্য' বা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ঢালাও মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকা দীর্ঘ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালাল চক্র সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, যার ফলে তাদের পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে। আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এই প্রবণতা বন্দরনগরীর জনজীবনে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া শতাধিক মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে, যা এই বাণিজ্য সিন্ডিকেটের জন্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। দালাল চক্র প্রথমে বিত্তশালী বা নিরীহ ব্যক্তিদের টার্গেট করে এবং পরবর্তীতে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বা গ্রেপ্তার না করার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যের যোগসাজশে এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। অতীতেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এমন মামলা বাণিজ্যের নজির থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এর মাত্রা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং স্থানীয় আইনজীবী সমিতি এই গণ-মামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে মামলাগুলো স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ সেল গঠন করে এই মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় পুলিশের মামলা দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এখন সময়ের দাবি। ঢালাওভাবে এজাহারে শত শত অজ্ঞাতনামা আসামি রাখার ঔপনিবেশিক আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ না করলে এই মামলা বাণিজ্য প্রতিরোধ করা অসম্ভব। রাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে বিচারিক প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই নিরপরাধ মানুষের ওপর নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে না দিলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
“চট্টগ্রামে মামলা বাণিজ্যের এই বিস্তার কেবল আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করে না, বরং এটি নাগরিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজ চক্র ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা, অন্যথায় বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়বে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



