সারের কৃত্রিম সংকট ও কৃষক হয়রানি: তদন্তের মাঝেই দিনাজপুরের কৃষি কর্মকর্তা বদলি
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দিনাজপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে স্থানীয় কৃষক সমাজ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
- দিনাজপুরে সারের কৃত্রিম সংকট ও কৃষকদের অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে তদন্ত চলাকালীন কৃষি উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে।
- স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলো এই বদলিকে তদন্তের গতি ব্যাহত করার এবং অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
- জেলা প্রশাসন সারের অবৈধ মজুত রোধে গুদামগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং নতুন কর্মকর্তা বণ্টন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দিনাজপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও ডিলারদের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালককে (ডিডি) আকস্মিক বদলি করা হয়েছে। চলতি আমন ও রবি মৌসুমের পিক সময়ে সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহানো এবং অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ জারি করা হলেও স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডার দিনাজপুরে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় সার ডিলারদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এবং কৃষি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সারের কৃত্রিম অভাব তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে প্রান্তিক চাষিরা বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে বাধ্য হন, যা পুরো জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যাপক গণঅসন্তোষ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে মাঠে নামে।
বদলির এই আদেশকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলো একে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। আন্দোলনরত কৃষকদের দাবি, কেবল বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না, বরং তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারের গুদামগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। এদিকে, সদ্য যোগদানকারী নতুন উপপরিচালক দ্রুত সারের বণ্টন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করার এই সংস্কৃতি আমাদের প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে, যা অনেক সময় শাস্তির বদলে সাময়িক সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃষিপ্রধান এই দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষকদের অধিকার রক্ষা করা এবং সার বিতরণের মতো সংবেদনশীল খাতে দুর্নীতি নির্মূল করা জরুরি। কেবল বদলির মাধ্যমে দায় এড়ানোর চিরাচরিত প্রথা ভেঙে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সার বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করা গেলেই কেবল এমন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
“তদন্তাধীন অবস্থায় কর্মকর্তাদের বদলি করার প্রশাসনিক প্রবণতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথে বড় অন্তরায়। সারের মতো স্পর্শকাতর কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে হলে কেবল বদলি নয়, বরং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



