জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্পের সন্ধান: বায়োগ্যাস প্রযুক্তিতেই কি মিলবে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি?
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদিত এই গ্যাস একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে এই খাতের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- দেশে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের মুখে বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সম্ভাবনা বাড়ছে।
- ইডকল ও সরকারি সংস্থাগুলো গ্রামীণ পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিলেও উচ্চ প্রাথমিক খরচ বড় বাধা।
- বাণিজ্যিক খামারগুলোতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন বাধ্যতামূলক করার নীতিগত আলোচনা চলছে যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির অস্থিতিশীল মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় রান্নার গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির বর্জ্য ও গবাদি পশুর গোবর ব্যবহার করে উৎপাদিত বায়োগ্যাস দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি কেবল রান্নার জ্বালানি চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও কমিয়ে আনছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা তৈরি হচ্ছে যা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েক লাখ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সচল রয়েছে, যার সিংহভাগই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য, অথচ বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু ও কৃষিজাত বর্জ্য কাজে লাগিয়ে এই উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আদর্শ ডেইরি বা পোল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তা দিয়ে অনায়াসেই একটি মাঝারি মানের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিচালনা করা যায়। অতীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং কারিগরি দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক প্ল্যান্ট অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং প্রাথমিক বিনিয়োগের বড় অংক সাধারণ খামারিদের এই প্রযুক্তি গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।
এই খাতের উন্নয়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে কিছু নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মগুলোর জন্য বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনবে। বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (ইডকল) গ্রামীণ এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে স্বল্প সুদে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের দাবি, আমদানিকৃত এলপিজির ওপর শুল্ক ছাড়ের মতো দেশীয় বায়োগ্যাস প্রযুক্তির কাঁচামালেও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।
চলতি নিউজের সম্পাদকীয় মূল্যায়নে দেখা যায়, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে বায়োগ্যাসের মতো দেশীয় উৎসের বিকাশ অপরিহার্য। শুধুমাত্র নীতিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ে এই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা করা গেলে বায়োগ্যাস বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এছাড়া অকেজো প্ল্যান্টগুলো সংস্কার এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে বায়োগ্যাসকে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে (Energy Mix) অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি।
“বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সম্প্রসারণ কেবল জ্বালানি সংকটই মেটাবে না, বরং গ্রামীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতে জৈব সারের জোগান নিশ্চিত করবে। এই খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি ভর্তুকি ও তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



