রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ শামা ওবায়েদের, দ্রুত প্রত্যাবাসনের তাগিদ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক এই আশ্রয় যেন কোনোভাবেই দুই দশকে রূপ না নেয়। এই সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালো ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু না হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
- কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ক্রমবর্ধমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
- মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ, চীন ও ভারতের সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘায়িত অবস্থান দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া এই বিপুল জনসংখ্যার বোঝা বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করতে পারে না। ২০১৭ সালের সংকটের পর প্রায় এক দশক পার হতে চললেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে থাকায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও বনভূমির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণের সিংহভাগ দায় এখন বাংলাদেশের ওপর বর্তাচ্ছে। তাছাড়া, ক্যাম্পগুলোতে মাদক চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা এবং অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক কৌশলের কারণেই মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এই সংকট উত্তরণে শামা ওবায়েদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি চীন ও ভারতের সাথে সমন্বয় করে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির দাবি জানান তিনি। বিএনপি নেত্রীর মতে, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। একই সাথে শরণার্থী শিবিরগুলোতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও সক্রিয় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
চলতি নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়, বরং এটি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ যখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দিকে নিবদ্ধ, তখন বাংলাদেশকে নিজস্ব কূটনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করে এই ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শুধুমাত্র ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে বিশ্বনেতাদের বাধ্য করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
“রোহিঙ্গা সংকটের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার স্থবিরতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই প্রথাগত কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোকে যুক্ত করে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, অন্যথায় এই সংকট দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে থাকবে।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ

জামায়াত বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা বলে, এনসিপিও তা শিখছে: রাশেদ খাঁন
এইমাত্র
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্যকে অব্যাহতি: অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড
এইমাত্র
২১ সেপ্টেম্বর মার্কিন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য
এইমাত্রবাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।
