প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা: ডিবি পুলিশের জালে ভুয়া কর্মকর্তা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে চাকরি ও বদলির তদবিরের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া সিল, সরকারি নথি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি সরকারি দফতরগুলোতে তদবির সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
- প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে সরকারি চাকরি ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- অভিযানকালে আসামির কাছ থেকে জাল সরকারি সিলমোহর, ভুয়া নিয়োগপত্র এবং একাধিক মোবাইল সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
- প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এ ধরনের তদবিরের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে সরকারি চাকরি ও বদলির তদবিরের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়, যে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এই গ্রেফতারের ফলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী একটি বড় চক্রের তৎপরতা সাময়িকভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্র মতে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মূলত বেকার যুবক ও বদলিপ্রত্যাশী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করত। সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোগো সম্বলিত ভুয়া প্যাড, জাল সিলমোহর এবং কৃত্রিম কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন দফতরে ফোন দিয়ে তদবিরের চেষ্টা চালাত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে রেলওয়ে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামে অন্তত ডজনখানেক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এই ধরনের জালিয়াতি কেবল আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং দেশের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে পুনরায় সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত নন। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার সাথে প্রশাসনের অন্য কোনো স্তরের যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদেরও বুঝতে হবে যে, তদবির বা অবৈধ উপায়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার চেষ্টা নিজেই একটি অপরাধ। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই হতে পারে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা রুখতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন জরুরি। নাগরিকদের সচেতনতা এবং তদবির সংস্কৃতির অবসানই এ ধরনের অপরাধের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



