সার্চ ইঞ্জিন ছেড়ে টিকটকে ভ্রমণের গন্তব্য খুঁজছে জেন-জি প্রজন্ম
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

প্রথাগত সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটককে ভ্রমণের গন্তব্য নির্ধারণের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। দৃশ্যমান ও সংক্ষিপ্ত ভিডিওর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা অর্জনের এই প্রবণতা বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এর ফলে পর্যটন খাতের প্রচার ও বিপণন কৌশলেও আমূল পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
- জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ প্রথাগত সার্চ ইঞ্জিনের পরিবর্তে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন করছে।
- বিশ্বব্যাপী পর্যটন বোর্ড ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো প্রথাগত বিজ্ঞাপন বাদ দিয়ে টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে বিপণন জোরদার করছে।
- হঠাৎ ভাইরাল হওয়া পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ পরিবেশগত ভারসাম্য ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
প্রথাগত সার্চ ইঞ্জিন কিংবা ট্রাভেল গাইডের পাতা উল্টে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার দিন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, তাদের পরবর্তী ভ্রমণের গন্তব্য নির্ধারণে ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের ওপর। দৃষ্টিনন্দন ছোট ভিডিও, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং পর্যটকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন তরুণদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গুগলের মতো প্রতিষ্ঠিত সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে টিকটকের অ্যালগরিদম তাদের ব্যক্তিগত পছন্দকে দ্রুত শনাক্ত করতে পারছে, যা তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করে তুলছে। এই পরিবর্তন কেবল একটি প্রযুক্তিগত রূপান্তর নয়, বরং এটি তরুণদের জীবনধারা ও তথ্য অনুসন্ধানের অভ্যাসের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ এখন তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গুগলের পরিবর্তে টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে। পর্যটন খাতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া কোনো ছোট ভিডিওর কারণে রাতারাতি কোনো অখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা পর্যটন অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা তৈরি করেছে, যেখানে প্রথাগত বিজ্ঞাপনের চেয়ে ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্ট বেশি প্রভাব ফেলছে। তবে এই ভিজ্যুয়াল সার্চের পেছনে রয়েছে অ্যালগরিদমিক বুদবুদ, যা ব্যবহারকারীদের কেবল আকর্ষণীয় দিকগুলোই দেখায় এবং বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জগুলোকে আড়াল করে। ফলে অনেক সময় তরুণরা অবাস্তব প্রত্যাশা নিয়ে গন্তব্যে গিয়ে হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই নতুন বাজার ধরতে বিশ্বজুড়ে ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল চেইন এবং বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ডগুলো তাদের বিপণন কৌশল পুনর্গঠন করছে। তারা এখন প্রথাগত ওয়েবসাইটের পেছনে বিনিয়োগ কমিয়ে টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে অংশীদারিত্বে জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই; সাজেক, বান্দরবান বা সিলেটের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর প্রচারণায় এখন ফেসবুক রিলস ও টিকটকের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলো এখন তরুণদের আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় ভিডিও কনটেন্ট তৈরির জন্য বিশেষ সেল গঠন করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, কেবল প্রচারণার দিকে নজর না দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, টিকটক-ভিত্তিক পর্যটন যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে, তেমনি এটি অতিরিক্ত পর্যটনের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোনো একটি স্থান হঠাৎ ভাইরাল হওয়ার ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটক সমাগম ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, কেবল ছবির মতো সুন্দর ফ্রেমের খোঁজে ভ্রমণের এই সংস্কৃতি পর্যটনের মূল উদ্দেশ্য তথা স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেতনাকে ব্যাহত করছে। তাই টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তিগত প্রচারণার পাশাপাশি পরিবেশগত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এই সাময়িক জোয়ার দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
“টিকটক-ভিত্তিক পর্যটন তরুণদের ভ্রমণকে সহজ করলেও এটি পরিবেশগত বিপর্যয় ও অতিরিক্ত পর্যটনের ঝুঁকি তৈরি করছে। টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে হলে কেবল প্রচারণায় নয়, বরং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিবেশগত ধারণক্ষমতা ও দায়িত্বশীল ভ্রমণের ওপর জোর দিতে হবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।


