চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ: কক্সবাজার এক্সপ্রেসে রক্তাক্ত যাত্রী, রেলওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক সরকারি কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। চলন্ত ট্রেনে চিকিৎসকের জন্য মাইকিং এবং জরুরি যাত্রাবিরতি দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনাটি রেলওয়ের যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
- চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে শাহীন আহমদ নামের এক আয়কর কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।
- ট্রেনে মাইকিং করে চিকিৎসকদের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বোয়ালখালীতে জরুরি যাত্রাবিরতি দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
- একই যাত্রায় রামু এলাকায় আরও একবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা রেললাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
গত শনিবার দুপুরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যখন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন আকস্মিক পাথর নিক্ষেপে গুরুতর আহত হন শাহীন আহমদ নামের এক যাত্রী। ঢাকার উত্তরা কর অঞ্চলের প্রধান সহকারী শাহীন তাঁর সহকর্মীর সঙ্গে কক্সবাজারে একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ফিরছিলেন। পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হলে কামরার ভেতরে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ট্রেনের ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসায় রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাইকে ঘোষণা দিয়ে ট্রেনে ভ্রমণরত চিকিৎসকদের সাহায্য চাওয়া হয়।
এই যাত্রাটিতে কেবল একবারই নয়, বরং দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর দুইটার দিকে রামু-ইসলামাবাদ এলাকায় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হলে একটি বগির জানালার কাচ ভেঙে যায়, তবে সে যাত্রায় কেউ আহত হননি। বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে নতুন ও আধুনিক ট্রেনগুলো চালু হওয়ার পর থেকে এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ট্রেনের মাইকে জরুরি ঘোষণার পর কামরায় থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং আহত যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে ট্রেনটি বোয়ালখালী এলাকায় একটি অননুমোদিত জরুরি যাত্রাবিরতি দিতে বাধ্য হয় এবং আহত শাহীনকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে এবং রেললাইনের আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার হার অত্যন্ত নগণ্য।
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এই পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি দেশের রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। উচ্চগতির বিলাসবহুল ট্রেন চালুর পাশাপাশি ট্র্যাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, রেললাইনের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যাত্রীদের জীবন এভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখেই থাকবে। রেলওয়েকে গণমানুষের নিরাপদ বাহন হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে রাষ্ট্রকে এই ধরনের নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
“চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও কার্যকর নজরদারির অভাব স্পষ্ট। কেবল সাময়িক তদন্ত কমিটির গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রেললাইনের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



