নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে কঠোর হুঁশিয়ারি গৃহায়নমন্ত্রীর: কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত নকশার বাইরে যেকোনো ধরনের ভবন নির্মাণ বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।
- অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং অবৈধ অংশ উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থাকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সাধারণ নাগরিকদের ভবন নির্মাণের পূর্বে অনুমোদন নিশ্চিতকরণ এবং আবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নীতিগত কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ক্রমবর্ধমান জননিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এক নীতি নির্ধারণী সভায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অনুমোদিত নকশার বাইরে আর কোনো ভবন নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এই নির্দেশনা ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরের আবাসন খাতের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট অগ্নিঝুঁকি এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমাতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিগত কয়েক দশকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে নকশা জালিয়াতি ও নিয়মবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজউক বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক নকশায় অনুমোদন নিয়ে বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। আবাসন খাতের এই অনিয়মের পেছনে তদারককারী সংস্থাগুলোর একাংশের দুর্নীতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বহুতল ভবন কোনো না কোনোভাবে নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত হয়েছে, যা জনজীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতিমধ্যেই তাদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নকশা লঙ্ঘনের ঘটনায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা যোগসাজশ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে, সাধারণ নাগরিকদের ভবন নির্মাণের পূর্বে অনুমোদিত নকশা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে তা ভেঙে ফেলার বিশেষ অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। আবাসন ব্যবসায়ী ও ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনগুলোও সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই, তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও ধারাবাহিক অভিযানের ওপর। অতীতেও এমন বহু ঘোষণা দেওয়া হলেও দুর্নীতির কারণে তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি, যা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করে। তাই কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে রাজউকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে হলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে কাজ করার বিকল্প নেই।
“নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধে সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবায়নে রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে আবাসন খাতের এই বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব হবে না।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



