জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

জাতীয় নিরাপত্তা ও ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিএসসিসিএল-এর ওপর নির্ভরতা বজায় রেখে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একক নিয়ন্ত্রণের ফলে ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাকআপ বা বিকল্প ব্যবস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
- জাতীয় নিরাপত্তা ও ডেটা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার স্বার্থে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএসসিসিএল-এর একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই ৬) প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
- বেসরকারি খাত এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাকআপ সংযোগের অভাব ও বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে বেসরকারি উদ্যোগে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ডেটার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তথ্য পাচার ও সাইবার নজরদারির ঝুঁকি এড়াতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আপাতত উপেক্ষিতই রয়ে গেল।
বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহের মূল দায়িত্ব পালন করছে। বেসরকারি খাত দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, একক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা যেকোনো বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয়ে সারা দেশকে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, বেসরকারি খাতে এই স্পর্শকাতর অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাহত হতে পারে। অতীতে বিভিন্ন দেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে তথ্য চুরির ঘটনার উদাহরণ টেনে নীতিনির্ধারকরা এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরছেন।
এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এবং অন্যান্য অংশীজনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করছেন, বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হলে ব্যান্ডউইথের মূল্য আরও হ্রাস পেত এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হতো। অন্যদিকে, বিটিআরসি জানিয়েছে যে তারা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই ৬) সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটাবে। একই সাথে স্থলভাগের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল) লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
চলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ধীরগতির করতে পারে। একক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা অতীতেও সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার সময় প্রমাণিত হয়েছে। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে, কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল ও রাষ্ট্রীয় তদারকি নিশ্চিত করে বেসরকারি অংশীদারিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত। একটি সুষম ও সুরক্ষিত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক উদারীকরণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
“জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা আবশ্যক হলেও, বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া ডিজিটাল অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা কমাতে পারে। একটি একক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দূর করতে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত সাপেক্ষে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া উচিত।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



