Read in English
পাঠক সুবিধা:
মতামত ও বিশ্লেষণ

প্রশংসার মোহজালে আত্মহারা নয়: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে আত্মসংযমের পাঠ

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
প্রশংসার মোহজালে আত্মহারা নয়: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে আত্মসংযমের পাঠ
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

মানুষের স্বভাবজাত প্রশংসাপ্রীনেক সহংকার ও আত্মতুষ্টির দরজা খুলে দেয়, যা ইসলামি দৃষ্টিতে আত্মিক বিপদের কারণ। কোরআনের আলোকে মুমিনের জন্য প্রশংসাকে আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি হিসেবে দেখার নির্দেশনা রয়েছে, নিজের কৃতিত্ব হিসেবে নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তির নৈতিক ভারসাম্য ও সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা উভয়কেই সুরক্ষিত রাখে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • সুরা নাজম (আয়াত ৩২) ও সুরা নাহল (আয়াত à§«à§©)-এর আলোকে ইসলাম স্পষ্টভাবে আত্মপ্রশংসা ও নিজেকে পবিত্র দাবি করাকে নিষিদ্ধ করেছে।
  • প্রশংসা প্রাপ্তির মুহূর্তে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে মুমিনের জন্য আত্মিক সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • প্রশংসার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি চারিত্রিক বিকাশ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

একটি সুন্দর কথা, একটি আন্তরিক স্বীকৃতি — এগুলো মানুষের দৈনন্দিসাধারণ শক্তি বহন করে। কেউ যখন বলে, 'আপভালো মানুষ' বা 'আপনার মতো জ্ঞানী কমই আছে', তখন সেই মুহূর্তটি হৃদয়কে উষ্ণ করে, আত্মবিশ্বাসকে চাঙা করে। কিন্তু ইসলামি চিন্তাধারা এই মনোরনুভূতির ভেতরেই একটি সূক্ষ্ম বিপদের সংকেত দেখে — যখন বারবার প্রশংসা শুনতে শুনতে মানুষ নিজেকে সতসাধারণ ভাবতে শুরু করে।হংকারের বীনেক সময় এতটাই নিঃশব্দেঙ্কুরিত হয় যে ব্যক্তি নিজেও টের পান না কখন তিনি বিনয় থেকে দূরে সরে গেছেন।

মানব মনোবিজ্ঞানে প্রশংসার প্রভাব নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা চলছে। পশ্চিমা মনোবিজ্ঞানীরা যেমন 'নার্সিসিজম' বা আত্মকেন্দ্রিকতার বিপদ চিহ্নিত করেছেন, ইসলামি আলেমরা শতাব্দীর পর শতাব্দর ধরে 'উজব' বা আত্মতুষ্টিকে আত্মারন্যতম বড় ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করে এসেছেন। ইমাম গাজ্জালি তাঁর 'ইহইয়া উলুমিদ্দিন' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন কীভাবে প্রশংসা একজন সাধকের আত্মিক উন্নতিকে থামিয়ে দিতে পারে। কোরআনে সুরা নাজমের ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সরাসরি বলেছেন, নিজেকে পবিত্র দাবি না করতে — কারণ প্রকৃত তাকওয়া বা আল্লাহভীতির মূল্যায়ন কেবল তাঁরই এখতিয়ারে। এই ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে যে প্রশংসার প্রতি সতর্কতা কোনো নতুন ধারণা নয়, বরং এটি হাজার বছরের পরীক্ষিত আত্মিক প্রজংশ।

ইসলামি পণ্ডিতরা প্রশংসা পেলে মুমিনের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করেছেন, যা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও কার্যকর। প্রথমত, প্রশংসিত গুণটিকে নর্জন না ভেবে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত হিসেবে স্বীকার করা — সুরা নাহলের ৫৩ নম্বর আয়াত এই নির্দেশনার ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, যা মনোবৈজ্ঞানিকভাবেহংকারের বিরুদ্ধে একটি সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তৃতীয়ত, প্রশংসাকে আরও ভালো করারনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া, আত্মতৃপ্তির উপকরণ হিসেবে নয় — এই মনোভাব ব্যক্তিকে ক্রমাগত উন্নতির পথে রাখে এবং সমাজে তার ইতিবাচক ভূমিকাকে টেকসই করে।

চলতি নিউজের বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে, প্রশংসার প্রতি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির এই আলোচনা আজকের সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর সমাজে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, যেখানে 'লাইক', 'শেয়ার' ও 'ফলোয়ার' সংখ্যা মানুষের আত্মপরিচয়ের মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাৎক্ষণিক প্রশংসার এবিরাম প্রবাহ ব্যক্তির আত্মসমালোচনার ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বিভাজন ও নেতৃত্বের নবক্ষয়ের কারণ হতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষার এশটি কেবল ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির বিষয় নয়, এটি একটি সুস্থ সামাজিক সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তিও বটে — যেখানে মানুষ প্রশংসা পেয়ে স্ফীত হয় না, বরং দায়িত্ববোধে আরও নত হয়। প্রশংসাকে আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি হিসেবে দেখার এই কাঠামো, বস্তুত, একটি জবাবদিহিমূলক ও বিনয়ী নাগরিক সমাজের জন্য সর্বজনীন মূল্যবোধ বহন করে।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম

জনপ্রিয় সংবাদTrending