Read in English
পাঠক সুবিধা:
সারাদেশকক্সবাজারচট্টগ্রাম

চলন্ত কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত যাত্রী, মাইকে চিকিৎসক খুঁজল রেলওয়ে

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
চলন্ত কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত যাত্রী, মাইকে চিকিৎসক খুঁজল রেলওয়ে
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় পাথর নিক্ষেপে ঢাকার উত্তরা আয়কর কার্যালয়ের প্রধান সহকারী শাহীন আহমদের (৩৯) মাথা ফেটে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্ত বন্ধ না হওয়ায় ট্রেনের মাইকে চিকিৎসক ডাকতে বাধ্য হন দায়িত্বরত কর্মীরা এবং পরে মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে আহতকে বোয়ালখালীর হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই যাত্রায় রামু-ইসলামাবাদ এলাকায় আরেকটি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি বগির জানালার কাচ ভেঙে পড়ে, যা রেলপথে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পাথরের আঘাতে ঢাকার আয়কর কর্মকর্তা শাহীন আহমদের (৩৯) মাথা ফেটে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়; একই যাত্রায় রামু-ইসলামাবাদে দ্বিতীয় পাথর নিক্ষেপে বগির জানালার কাচ ভাঙে।
  • রক্ত বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের মাইকে চিকিৎসক আহ্বান করে এবং পরে মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে আহত যাত্রীকে বোয়ালখালীর হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
  • ট্রেনে উপস্থিত একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং শাহীন আহমদ পরে ঢাকায় ফিরে আসেন; তবে ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

মাদকবিরোধী একটি ম্যারাথন কর্মসূচ নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন উত্তরা আয়কর কার্যালয়ের প্রধান সহকারী শাহীন আহমদ ও তাঁর সহকর্মী আয়কর আইনজীবী নজরুল ইসলাম। শনিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি পাথর এসে আঘাত করে শাহীনের মাথায়, মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় তাঁর মুখমণ্ডল। চলন্ত ট্রেনে সহযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করলেও রক্তক্ষরণ কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছিল না, যা পরিস্থিতিকে দ্রুত জরবস্থায় পরিণত করে। কক্সবাজার-ঢাকা রুটে এই ট্রেনটি কেবল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থামে বলে নিকটবর্তী কোনো স্টেশনে নামিয়ে চিকিৎসার সুযোগও ছিল না, ফলে আহত যাত্রীর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়ে ওঠে।

কক্সবাজার এক্সপ্রেস দুপুর সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার স্টেশন ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছিল, এবং লোহাগাড়ায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনার আগেই বেলা দুইটার দিকে রামু-ইসলামাবাদ এলাকায় একই ট্রেনে প্রথম পাথর ছোড়া হয়, যাতে একটি বগির জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। সেই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে একটি নির্দিষ্ট রুটে পরিকল্পিতভাবে বা বারবার ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হচ্ছে। বাংলাদেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়; রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নথিনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নজির বিরল। শাহীন আহমদ নিজে জানান, কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে আয়োজিত ম্যারাথনয়ে তিনি সরকারি দায়িত্বে ফিরছির্থাৎ একজন সরকারি কর্মকর্তা কর্তব্যরবস্থায় এই হামলার শিকার হয়েছেন।

রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কোনো চিকিৎসক থাকলে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, এবং সৌভাগ্যক্রমে একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক সাড়া দেন। তাঁরা আহত শাহীনকে পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝপথে ট্রেন থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বোয়ালখালীর একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে শাহীন আহমদ সেদিনই ঢাকায় ফিরতে সক্ষম হন। তবে ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এই ঘটনা বাংলাদেশের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। একটি দীর্ঘ রুটে মাত্র তিনটি স্টেশনে থামার নীতি যাত্রীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে দেয়, এবং এই ঘটনায় ট্রেনে একজন সার্জন না থাকলে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। রেলপথের পাশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি এবং দ্রুত আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। চলতি নিউজের বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিটি দূরপাল্লার ট্রেনে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা এবং পাথর নিক্ষেপের ঘটনাগুলো গুরুতর ফৌপরাধ হিসেবে বিচার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম

জনপ্রিয় সংবাদTrending