Read in English
পাঠক সুবিধা:
আন্তর্জাতিকঢাকা

গাজায় আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ১০২ সাবেক কূটনীতিক

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
গাজায় আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ১০২ সাবেক কূটনীতিক
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

গাজায় চলমান সামরিক অভিযান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান। তারা মনে করেন, কেবল মৌখিক নিন্দা ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসতা বন্ধ করতে পারবে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌথ দাবি জানিয়েছেন ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক।
  • বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ইসরায়েল একে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক ইসরায়েলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে তেল আবিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান। এই কূটনীতিকরা মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নৃশংসতা বন্ধে কেবল মৌখিক নিন্দা যথেষ্ট নয়, বরং কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবি উপেক্ষা করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ বিবৃতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ দখলদারিত্ব এবং সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় নির্বিচার বিমান হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বিগত কয়েক দশকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া অসংখ্য প্রস্তাব ইসরায়েল যেভাবে উপেক্ষা করেছে, তা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তোলে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা ও diplomatic সুরক্ষা এই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

এই যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি বিশ্ববিবেকের জাগ্রত হওয়ার প্রমাণ এবং অন্যান্য দেশেরও উচিত এই পথ অনুসরণ করা। অন্যদিকে, ইসরায়েলি পররাষ্ট্র দপ্তর এই দাবিকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বাস্তবতাবর্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো যদি এখন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা নিজ নিজ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নতুন করে বিক্ষোভ ও লবিং শুরু করেছেন।

চলতি নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাবেক কূটনীতিকদের এই সম্মিলিত অবস্থান প্রমাণ করে যে প্রথাগত দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে হলে পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে একটি অভিন্ন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি। কেবল রাজনৈতিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি সত্যিই অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়, তবেই কেবল যুদ্ধবাজ নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করা সম্ভব। অন্যথায়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

সাবেক কূটনীতিকদের এই যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে গাজা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম