সংবিধানের হস্তলেখক পদক পেলেও ড. কামাল পাননি: রেহমান সোবহান
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান আক্ষেপ করে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান যিনি হাতে লিখেছেন তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেলেও এর মূল প্রণেতা ড. কামাল হোসেন তা পাননি।
- সংবিধানের মূল খসড়া তৈরির কারিগর ড. কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেহমান সোবহান।
- সংবিধান সুন্দর করে হাতে লেখার জন্য শিল্পী আবদুর রউফ স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।
- দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে ড. কামাল হোসেনের অবদানকে সম্মান জানানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশের সংবিধানের মূল রচয়িতা ড. কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, যিনি সংবিধানটি সুন্দর করে হাতে লিখেছিলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন। কিন্তু যিনি দিনরাত পরিশ্রম করে এই সংবিধান তৈরি করলেন, সেই ড. কামাল হোসেনকে কোনো বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরির কাজ শুরু হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি এই সংবিধানের খসড়া তৈরি করে। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক দলিলটি তৈরি করা হয়েছিল, যা বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে শিল্পী আবদুর রউফ এই সংবিধানটি নিজের হাতে সুন্দর করে লেখেন, যার জন্য তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।
রেহমান সোবহান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ড. কামাল হোসেনের মতো একজন মানুষকে তাঁর যোগ্য সম্মান না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দেশের বড় বড় অবদানকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস ও জাতীয় অর্জনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত।
বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, দেশের ইতিহাসকে বিতর্কহীন রাখতে হলে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য মানুষদের সম্মান জানাতে হবে। ড. কামাল হোসেনের মতো ব্যক্তিত্বদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে। দেশের সংবিধান তৈরির পেছনের আসল নায়কদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।
“রেহমান সোবহানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণীজনদের অবমূল্যায়নের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে জাতীয় বীর ও অবদানকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দেওয়া একটি নেতিবাচক প্রবণতা। সংবিধানের মতো একটি মৌলিক দলিলের প্রধান প্রণেতাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হলে তা জাতীয় ঐক্য ও ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



