Read in English
পাঠক সুবিধা:
তথ্যপ্রযুক্তি ও এআইঢাকা

বিশ্বজুড়ে ২৩ আগস্ট কেন ‘ইন্টারনেট দিবস’ হিসেবে পালিত হয়

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
বিশ্বজুড়ে ২৩ আগস্ট কেন ‘ইন্টারনেট দিবস’ হিসেবে পালিত হয়
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট স্যার টিম বার্নার্স-লি সাধারণ মানুষের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) উন্মুক্ত করেন, যা মানব সভ্যতার যোগাযোগের ধরনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে 'ইন্টারনেট দিবস' বা 'ইন্টারনট ডে' পালিত হয়। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি বিশ্বকে একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট স্যার টিম বার্নার্স-লি সুইজারল্যান্ডের সার্ন (CERN) ল্যাবে তৈরি করা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন।
  • ইন্টারনেট ও নভোচারী (অ্যাস্ট্রোনট) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত 'ইন্টারনট' শব্দটি দিয়ে মূলত ইন্টারনেটের সক্রিয় ও দক্ষ ব্যবহারকারীদের বোঝানো হয়।
  • বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ও ডায়াল-আপ সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেটের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন, কিন্তু এই বিশাল নেটওয়ার্কের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার দিনটি ছিল ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার টিম বার্নার্স-লি সুইজারল্যান্ডের সার্ন গবেষণাগারে বসে যখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) তৈরি করেন, তখন তা কেবল গবেষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২৩ আগস্ট সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের এক অভূতপূর্ব বিপ্লবের সূচনা ঘটে। এই দিনটিকে সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী 'ইন্টারনেট দিবস' বা 'ইন্টারনট ডে' পালন করা হয়। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং মানব সভ্যতার ইতিহাসে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

ইন্টারনেটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর 'আরপানেট' (ARPANET) প্রকল্পের মাধ্যমে এর প্রাথমিক ধারণার জন্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে টিম বার্নার্স-লি তথ্যের আদান-প্রদান সহজ করার জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (এইচটিটিপি) এবং এইচটিএমএল ভাষা আবিষ্কার করেন। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রথম সাধারণ ব্যবহারকারীরা ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার সুযোগ পান, যা তৎকালীন সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে অফলাইন ইমেইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সূচনা হলেও ১৯৯৬ সালে প্রথম ভি-স্যাটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ইন্টারনেট সেবা চালু হয়। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংগঠনগুলো প্রতি বছর এই দিনে ইন্টারনেটের নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়। বাংলাদেশ সরকারও 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণ এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য এবং ধীরগতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এখনও কিছু অসন্তোষ রয়ে গেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল অবকাঠামোর সুষম উন্নয়ন ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ইন্টারনেটের প্রকৃত সুফল পৌঁছানো সম্ভব নয়।

চলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইন্টারনেট এখন আর কোনো বিলাসী পণ্য নয়, বরং এটি মৌলিক অধিকারের সমতুল্য একটি নাগরিক সেবায় পরিণত হয়েছে। তবে অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধ করা রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বড় challenge হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি কাঠামোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও বৈষম্যহীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এই দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য রক্ষা করা সম্ভব।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

ইন্টারনেট আজ বিশ্বজুড়ে মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ হয়ে উঠেছে, তবে এর নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোই হোক এই দিবসের মূল অঙ্গীকার।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম