নিজের পাতা ফাঁদে ৩৬ কোটি টাকা খোয়াল অনলাইন প্রতারক চক্র
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ঢাকায় অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করা একটি চক্র নিজেদের তৈরি করা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৩৬ কোটি টাকা হারিয়েছে। গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট উল্টো কাজ করায় তাদের নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেট খালি হয়ে যায়। পুলিশ ও বিএফআইইউ ইতিমধ্যে এই চক্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করে তদন্ত শুরু করেছে।
- অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তৈরি করা স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টের ত্রুটির কারণে ৩৬ কোটি টাকা হারিয়েছে।
- সিআইডি এবং বিএফআইইউ যৌথভাবে চক্রটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে এবং ব্লকচেইন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের তদন্ত করছে।
- অবৈধ প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়া গ্রাহকরা মূলধন ফেরত পাওয়ার দাবি জানালেও আইনি জটিলতার কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
রাজধানীতে অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসা একটি চক্র নিজেদের তৈরি করা ডিজিটাল ত্রুটির কারণে ৩৬ কোটি টাকা হারিয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে চক্রটি একটি জটিল অ্যালগরিদম ও সফটওয়্যার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। তবে তাদের নিজস্ব সিস্টেমে থাকা একটি বড় নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগে পুরো অর্থ তাদের মূল অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই ঘটনাটি দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ এবং অবৈধ ডিজিটাল অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে এনেছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির অপব্যবহার কেবল সাধারণ মানুষকে নয়, বরং অপরাধীদেরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি গত দেড় বছর ধরে ছদ্মনামে বিভিন্ন শেল কোম্পানি ও ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তারা সাধারণ মানুষকে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে এই ৩৬ কোটি টাকার তহবিল গড়ে তোলা হয়েছিল। চক্রটি যখন কৃত্রিমভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি বড় ধস দেখিয়ে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখনই তাদের স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টটি উল্টো কাজ করে এবং তাদের নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেটগুলো সম্পূর্ণ খালি করে দেয়।
এই প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চক্রটির আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন শেল কোম্পানির নামে থাকা বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পাচার হওয়া অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্ত করতে ব্লকচেইন লেজার ট্র্যাক করছেন। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন ফেরত পাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করছেন, যদিও অবৈধ প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ উদ্ধার করা অত্যন্ত জটিল বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
এই ঘটনাটি দেশের বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক কার্যক্রম এবং অবৈধ অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মগুলো পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ও প্রযুক্তিগত ঘাটতিকে উন্মোচিত করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, এটি কেবল ঘটনার পর তদন্ত করার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারকে উন্নত ডিজিটাল নজরদারি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে যাতে এই ধরনের প্রতারক চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। পরিশেষে, এই ঘটনাটি একটি কঠোর বার্তা দেয় যে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল আর্থিক খাত অপরাধী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে বিপজ্জনক।
“এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে কঠোর তদারকির অভাব রয়েছে, যা প্রতারকদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। শুধুমাত্র ঘটনার পর তদন্ত না করে, বিএফআইইউ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত অবৈধ ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



