‘বন্যার তোড়ে মাটি কাঁপছিল, ভেবেছিলাম আর বাঁচব না’
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ফেনীর পরশুরামে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পানির তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার ও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা।
- ফেনীর পরশুরামে আকস্মিক বন্যায় পানির তীব্র স্রোতে অনেক ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে।
- স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির বেগ এত বেশি ছিল যে মনে হচ্ছিল পায়ের নিচের মাটি কাঁপছে।
- কোনো রকমে ঘরের চাল বা উঁচু গাছের ডালে আশ্রয় নিয়ে অনেকে নিজের জীবন বাঁচিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক। গত আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় চোখের সামনে নিজের ঘরবাড়ি ভেসে যেতে দেখেছেন তিনি। হঠাৎ হুড়মুড় করে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে যখন চারপাশ ভেসে যাচ্ছিল, তখন তার মনে হয়েছিল পায়ের নিচের মাটি কাঁপছে। কোনো রকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের চালে উঠে সে যাত্রা বেঁচে যান তিনি।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার শত শত গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের জীবনে তারা কখনো পানির এমন ভয়ংকর রূপ এবং তীব্র স্রোত দেখেননি।
এই আকস্মিক দুর্যোগে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবীরা। তবে পানির তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দুই দিন স্পিডবোট নিয়েও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষজন শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছিলেন, যা পরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিতরণ করা হয়।
বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি নতুন করে তৈরি করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য এখন সবার জরুরি সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য প্রয়োজন।
“এই বন্যা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি কতটা জরুরি। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার নদীগুলোর পানি বণ্টন ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



