মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা: সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মোসাদ প্রধানের নজিরবিহীন গোপন বৈঠক
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোলান মালভূমি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সিরিয়ায় ইরানি মিলিশিয়াদের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেই এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
- মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে মোসাদ প্রধান ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- বৈঠকে গোলান মালভূমি সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো এবং সিরিয়ায় ইরানি মিলিশিয়াদের তৎপরতা সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
- সিরিয়ায় অবস্থানরত রুশ বাহিনীর মধ্যস্থতায় বা সম্মতিতে এই নজিরবিহীন ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপন ও নজিরবিহীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি এমন এক মুহূর্তে ঘটল যখন সিরিয়া সীমান্ত ও গোলান মালভূমি অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি চরম সীমায় পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের তৎপরতা সীমিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের কঠোর গোপনীয়তা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর এবং যেকোনো একটি ভুল পদক্ষেপ কীভাবে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম সংকটে ফেলতে পারে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া মূলত লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে ইরানি অস্ত্র পৌঁছানোর প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যার ফলে দেশটি বারবার ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই সরবরাহ লাইন ধ্বংস করতে ইসরায়েল সিরিয়ার অভ্যন্তরে শত শত বিমান হামলা চালালেও ২০০০ সালে শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর থেকে দামেস্ক ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল না। তবে সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জেরে সৃষ্ট চরম উত্তেজনা উভয় পক্ষকেই তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, সিরিয়ায় শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা রাশিয়া এই গোপন যোগাযোগ সহজতর করতে বা অন্তত সবুজ সংকেত দিতে পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
দামেস্ক এবং জেরুজালেম—উভয় পক্ষের সরকারি মুখপাত্ররা এই গোপন বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সিরীয় প্রশাসন তাদের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলা কমাতে এই সংলাপে অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উত্তর সীমান্তে ইরানি সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে যেকোনো মূল্যে লাল রেখা বজায় রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত রাখা হয়েছে, কারণ ওয়াশিংটন এই সংলাপকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে।
একটি নিরপেক্ষ ও গভীর বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, এই গোপন বৈঠকটি প্রমাণ করে যে জনসমক্ষে চরম বৈরী বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বাস্তববাদী কূটনীতিই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায়। যদিও একটিমাত্র বৈঠক দশকের পর দশক ধরে চলা গভীর শত্রুতা ও আদর্শিক বিরোধ দূর করতে পারবে না, তবুও এটি সংকট ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল। এই গোপন কূটনীতির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে উভয় পক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ ও মিত্রদের চাপ সামলে এই ভঙ্গুর যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে কিনা তার ওপর। দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই ধরনের সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন প্রচেষ্টাকে একটি নিয়মতান্ত্রিক সংলাপে রূপান্তর করা প্রয়োজন, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করবে।
“এই গোপন বৈঠকটি প্রমাণ করে যে চরম বৈরিতার মধ্যেও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বৈরী রাষ্ট্রগুলো পর্দার আড়ালে সংলাপে বসতে বাধ্য হয়। তবে এই ভঙ্গুর যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপান্তর করতে হলে সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



